নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য: একটি গভীর পর্যবেক্ষণ
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা জীববৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাপী নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন।
বিষণ্নতা ও উদ্বেগের উচ্চ হার
বিষণ্নতা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী রোগের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং নারীদের মধ্যে এর প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ উভয়েই নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বিষণ্নতায় ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোনজনিত পরিবর্তন, সামাজিক চাপ, এবং জীবনধারাগত কারণগুলো নারীদের মধ্যে বিষণ্নতার হার বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপাদানগুলোর গভীর প্রভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, “স্যান্ডউইচ কেয়ারার” বা যারা একই সাথে সন্তান এবং বৃদ্ধ পিতামাতার যত্ন নেন, তাদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। কর্মস্থলে নারীরা প্রায়ই অধিক মানসিক চাপ অনুভব করেন, যা তাদের উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
মেনোপজ ও মানসিক স্বাস্থ্য
মেনোপজ পরবর্তী সময়ে নারীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মেনোপজের উপসর্গগুলি যেমন গরম লাগা বা রাতের ঘাম, নারীদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া, ইস্ট্রোজেন হরমোনের হ্রাসও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্বাস্থ্যসেবা ও নারীদের অভিজ্ঞতা
নারীরা প্রায়ই স্বাস্থ্যসেবায় “মেডিকেল গ্যাসলাইটিং” বা তাদের উপসর্গগুলোকে অবহেলা করার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। চিকিৎসা গ্রহণে এই ধরনের বাধা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে। চিকিৎসকেরা নারীদের উদ্বেগজনিত সমস্যা বা মানসিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় অনেক নারী সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পান না।
সমাধান ও সুপারিশ
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ:
- সচেতনতা বৃদ্ধি: মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং নারীদের মানসিক সমস্যাগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া।
- সমর্থনমূলক নীতিমালা: কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান এবং পরিবারে সহযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
- গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ: নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গবেষণার মাধ্যমে সঠিক নীতিমালা তৈরি করা।
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা সমাজের সামগ্রিক সুস্থতার সাথে জড়িত। তাই, এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র
- Bromet, E. J., Andrade, L. H., Hwang, I., et al. (2011). Cross-national epidemiology of DSM-IV major depressive episode. BMC Medicine, 9(90). https://bmcmedicine.biomedcentral.com/articles/10.1186/1741-7015-9-90
- World Health Organization (WHO). (2021). Gender disparities in mental health. World Health Report. https://www.who.int/mental_health/prevention/genderwomen/en/
- Kuehner, C. (2017). Why is depression more common among women than among men? The Lancet Psychiatry, 4(2), 146-158. https://www.thelancet.com/journals/lanpsy/article/PIIS2215-0366(16)30263-2/fulltext
- Maki, P. M., & Henderson, V. W. (2012). Hormone therapy, dementia, and cognition: The Women’s Health Initiative 10 years on. Climacteric, 15(3), 256-262. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3663071/
এই গবেষণাগুলো নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে এবং এর উন্নয়নের জন্য কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।